ইউনূস সরকারের উদ্যোগ
প্রাথমিকে ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগ
- সর্বশেষ আপডেট ০১:২০:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫
- / 256
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকার কারণে শিক্ষা কার্যক্রমে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নির্দেশ দিয়েছেন—শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
সোমবার (১৪ জুলাই) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এই নির্দেশনা দেন তিনি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়াসহ মন্ত্রণালয় ও মাঠ পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বৈঠকে জানানো হয়, বর্তমানে দেশের প্রায় ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এর ফলে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং পাঠদানে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। শিক্ষা ব্যবস্থার মান উন্নয়নের জন্য এসব শূন্য পদ পূরণ জরুরি।
উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় জানান, যেসব স্কুলে শিক্ষার মান ভালো—সেখানে প্রধান শিক্ষক যোগ্য ও অভিজ্ঞ। সহকর্মীদের সঙ্গে তার ব্যবহার এবং নেতৃত্বের ভূমিকা শিক্ষার্থীদের সাফল্যে সহায়ক হয়েছে। মূল্যায়নভিত্তিক একটি র্যাংকিং প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, যেখানে পিছিয়ে পড়া স্কুলগুলো চিহ্নিত করে আলাদা কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, “প্রধান শিক্ষক নিয়োগে অভিজ্ঞতা, যোগ্যতা, ও তারুণ্যের মিশ্রণ থাকতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা করছেন এমনদের অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও, তরুণদের জন্যও সুযোগ থাকতে হবে।”
তিনি বিভিন্ন ক্যাটাগরির ভিত্তিতে নিয়োগ কাঠামো তৈরি এবং পিএসসির সঙ্গে সমন্বয়ে দ্রুত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে সুপরিকল্পিত বদলি নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রয়োগের কথাও বলেন তিনি।
বদলির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত তদবিরের সংস্কৃতি রোধে কঠোর নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা। “শুধুমাত্র নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করেই বদলি হতে হবে,” বলেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর নারী বান্ধব অবকাঠামো, ইন্টারনেট সংযোগ, এবং মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ভবিষ্যতের স্কুলগুলো যাতে মেয়েদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত হয়, সেই লক্ষ্যে স্কুল ভবন পরিকল্পনা ও নির্মাণ কমিটিতে অন্তত একজন নারী স্থপতি রাখার প্রস্তাব দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “পরিকল্পনায়, বাস্তবায়নে, এবং নীতিগত পর্যায়ে মেয়েদের বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্বে বিবেচনা করতে হবে।”
































