ঢাকা ০১:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আকাশমণির একগুচ্ছ কবিতা

শিল্প সাহিত্য ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:৫২:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৫
  • / 475

কবি আকাশমণি

দেবী মানুষ রূপে

দেবী রুপে প্রতিমা দেখেছি,দেবীকে দেখা হয়নি
দেবী কি তোমার চেয়েও সুন্দর…?
না কি দেবী মানুষ রূপে তুমি…?
তোমাকে দেখার পর দেবী দেখার ইচ্ছে নেই
বিশ্বাস করো একটুও ইচ্ছে নেই আমার
তুমিই তো পুরুষ চোখে সৌন্দর্যের দেবী
মন:মন্দিরে সকাল সন্ধ্যা অর্চনা করে
অর্ঘিতপুষ্প তোমার চরণে শোভা পায়।
সৌন্দর্যের পূজারী পুরুষের আরাধনা
কাংখিত স্বপ্নের চাওয়া তুমি
স্রষ্টা সৃষ্টি করে অবাক চোখে
তাকিয়ে ছিলো কতশত বছর।
তোমার কারণেই পৃথিবী নিত্যনতুন সাজে
তোমার শরীরে আম্র মুকুলের গন্ধ পাই
তুমি বৃষ্টিতে এলে বৃষ্টি হয়ে ওঠে ছন্দময়
শরতের বাতাসে তোমার চুলের কামিনী ঘ্রাণ
হেমন্তের মাঠেঘাটে তোমার বন্দনা।
শীতে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে পুরুষ
লেপের ওমে তোমার স্পর্শ খোঁজে।
তুমি যখন ভালোবাসতে ব্যাকুল হয়ে ওঠো
তখন বসন্ত আসে ফুল পাখি গেয়ে ওঠে।
সত্যিই দেবী
তোমাকে গভীর আলিঙ্গনে ভালোবাসা যায়
কষ্ট দেওয়া যায় না…

 

উচ্ছিষ্ট শুন্য ডাস্টবিন

উচ্ছিষ্ট শুন্য ডাস্টবিন
কাকদের করুন বিভৎস কা কা শব্দে
ভূতুড়ে শহর নগর জনপদ।
আকাশে দলবেঁধে শকুনের দল…
হাহাকার চাঁপাকান্না অজানা আতঙ্কে মানুষ।
ক্ষুধার তীব্র নেশায় মাতাল…
সম্পর্কের বাঁধন দেওয়া নেওয়ায় আসক্ত
প্রয়োজনের তাগিদে আপন হওয়ার ভান।
বিড়ির দামে বেঁচা-কেনা মানুষ জীবন!
একশ্রেণী মাসিকের রক্ত চেটেপুটে ফুলেফেঁপে কলাগাছ।
সুরা নারী দেহে বুদ হয়ে বিকৃত জীবন যাপন
ক্ষুধার যন্ত্রণায় পৃথিবীর কাঁপন চোখে পড়ে না।
মেয়েরা একমুঠো ভাতের আশায়
প্রকাশ্যে ইজ্জত বিক্রি করে
বেঁচে থাকার বৃথা চেষ্টা…
কঙ্কালসার দেহে নারী গর্ভবতী
অলিগলিতে কুকুরের মহড়া ভূমিষ্ট শিশুদের খেতে।
ভাগাড়ে মানুষ দেহের স্তুপ…
স্রষ্টা কাঠের চশমা পড়ে ঘুমিয়ে গেছে
নির্যাতিত নিপিড়ীত শোষিত মানুষের দৃঢ় বিশ্বাস।
উচ্ছিষ্ট শুন্য ডাস্টবিন
কাকদের করুন বিভৎস কা কা শব্দে
ভূতুড়ে শহর নগর জনপদ।

 

পরাধীনতার শেকল ছিঁড়ে

পরাধীনতার শেকল ছিঁড়ে, স্বাধীন হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে
জীবন বাজি রেখেছিল বীর বাঙালি।
মাটির টানে মায়ের ভাষা রাখতে ধরে দামাল ছেলে
ঝাঁপিয়ে পড়েছিল শত্রুর বিরুদ্ধে ।
বুকভরা সাহস দেশপ্রেমের নিগুঢ় টান
পাক বাহিনীর বুটের শব্দ
বোমা গোলাবারুদের বিকট আওয়াজ
বাঙালির বীর সন্তানদের প্রাণে ভয় ধরাতে পারেনি।
দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লক্ষ লক্ষ প্রাণের আত্মাহুতি
বীর সন্তানেরা এনেছে লাল সবুজের পতাকা
আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা।
নয় মাসে বিভীষিকাময় রাত, মা বোনের সম্ভ্রম হারানো
বিষ খাওয়া পশুর মতো গোঙানি বাতাস ভারী করেছে
সন্তান হারানো বাবা মায়ের চিৎকার, ভাই হারানো আর্তনাদ
গলেনি পাষণ্ড পাক হানাদার বাহিনীর হৃদয়…

 

ঘৃণিত পুরুষ পতিতা

যৌনতা চরিতার্থ করার জন্য লোভের ফাঁদ কেন
কেন বল প্রয়োগ করে ধর্ষক হওয়া।
চাইলে তো পতিতালয়ের বীরপুরুষ হতে পারতে
টাকার অভাব থাকলে হস্তবীদ হতে।
কুটকৌশলে যে নারীদেহে যন্ত্রণার বিষ ছড়ালে
দেহটাকে ভোগ্যপণ্য মনে করলে
সে তোমার পরিবারের কেউ হলে…
যৌন নেশায় মাতাল হয়ে অবলা নারীর প্রতি
যে ঘৃণ পৌরষত্ব দেখিয়ে বীর ভাবছ
তা এক জারজ মনোভাব ছাড়া আরকিছুই না।
ধর্ষিতা তোমার বোন মেয়ে বৌ হলে
কতটা সহ্য করতে পারতে,ভেবেছ কি…?
ঘৃণিত পুরুষ পতিতা, তুমি পুরুষ জাতির কলংক।
পুরুষ সে
যে বোনের সম্ভ্রম,বউয়ের ইজ্জত,মা’য়ের সম্মান
বিপদ আপদে জীবন বাজি রাখে।

 

দেশপ্রেমের আদর মেখে

শিশুমনে দেশপ্রেম বীজ
যদি পারো বুনতে
লোভ লালসা আর ভয়ে
পারবেনা ভুলতে।
স্বাধীন দেশের পতাকা
শক্ত হাতে ধরো
দেশপ্রেমের আদর মেখে
জীবনটা গড়ো।

 

মনুষ্যত্বহীন মানুষের বসবাস

আমি আর ফিরবো না ভালোবাসার ওই পথে
যে পথে ভালোবাসা ছাড়া কিছুই নেই
ভালোবাসা এখন বাজারের পণ্য।
নিবিড় যত্নে দীর্ঘদিনের সাজানো প্রেম বাগান
খেয়েছে নষ্ট করেছে স্বার্থপর ছাগল
প্রেম এখন যৌনতা চরিতার্থ করার কৌশল।
এই সময়ে আবেগ স্পর্শে বিবেকবান মানুষরা
অনেকটা পচে যাওয়া ডিমের মতন
এখন গর্বের সাথে মিথ্যার চর্চা হয়
সত্য বলতে যতো ভয়…
এ পৃথিবী থেকে প্রায় বিলুপ্ত মানুষ
মানুষের আদলে মনুষ্যত্বহীন মানুষের বসবাস।
এখানে সতিত্ব আর সৌন্দর্য চড়া দামে বিক্রি হয়
আঁধারের বুকে কাঁপন তুলে পৈশাচিক যৌন হাট বসে
নারী ইচ্ছায় অনিচ্ছায় সে হাটে রুপের পসরা সাজায়।
হাড়ভাঙা ব্যথার তীব্র যন্ত্রনা,বিষ খাওয়া পশুর গোঙানি
নারীর নগ্নদেহে ফুটে উঠলেই উল্লাসে মেতে ওঠে
কণ্ডোম ফেটে জন্ম নেওয়া অবৈধ পুরুষ
চোখ ফেটে বের হওয়া অশ্রুতে তৃষ্ণা মেটায়।
শাসক স্বৈরশাসক হয়ে ওঠে মসনদ প্রেমে মজে
ক্ষমতার অপব্যবহার করে আপন সুখ খোঁজে।
রাজনৈতিক নেতা খেলা করে জনগণের আবেগ নিয়ে
নির্বোধ আম জনতা বান্দর নাচে কথার ফাঁদে
ভোট শেষে নীরবে নিভৃতে কাঁদে।
দেশপ্রেম উগলে ওঠে গল্প আড্ডা টকশোতে
সময় কাটে বিদেশি প্রভুর চামচিতে
বিশ্বে পরিচয় হয় পা চাটা জাতিতে।
টাকাময় হয়ে ওঠা পৃথিবীর মানুষের কাছে
ভ্রাতৃত্ব বন্ধন সম্পর্ক প্রেম ভালোবাসা মূল্যহীন
টাকায় আসক্ত জগতবাসী…
টাকা আছে সম্পর্ক আছে
টাকা আছে সম্মান আছে
টাকাতেই প্রেম ভালোবাসা
টাকাহীন রাস্তার অবহেলিত খড়কুটো…
জ্ঞানপাপী অনুর্বর মস্তিষ্কে হিংসা বিদ্বেষ করে চাষ
আমজনতা ফল ভোগ করে বারোমাস।
ধর্ম এখন লিভাস আর কথাতে
অন্তরে না আছে শুধু মাথাতে।
একশ্রেণী ধর্ম পুঁজি করে ক্ষমতা চায়
বয়ানে মুখেমুখে পরকালের ভয়।
মানুষ লোভ লালসায় হিংস্র দানব
ভুলে যায় সে ক্ষণস্থায়ী মানব।
আমি আর ফিরবো না ভালোবাসার ওই পথে
যে পথে ভালোবাসা ছাড়া কিছুই নেই
ভালোবাসা এখন বাজারের পণ্য।

 

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আকাশমণির একগুচ্ছ কবিতা

সর্বশেষ আপডেট ১০:৫২:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৫

দেবী মানুষ রূপে

দেবী রুপে প্রতিমা দেখেছি,দেবীকে দেখা হয়নি
দেবী কি তোমার চেয়েও সুন্দর…?
না কি দেবী মানুষ রূপে তুমি…?
তোমাকে দেখার পর দেবী দেখার ইচ্ছে নেই
বিশ্বাস করো একটুও ইচ্ছে নেই আমার
তুমিই তো পুরুষ চোখে সৌন্দর্যের দেবী
মন:মন্দিরে সকাল সন্ধ্যা অর্চনা করে
অর্ঘিতপুষ্প তোমার চরণে শোভা পায়।
সৌন্দর্যের পূজারী পুরুষের আরাধনা
কাংখিত স্বপ্নের চাওয়া তুমি
স্রষ্টা সৃষ্টি করে অবাক চোখে
তাকিয়ে ছিলো কতশত বছর।
তোমার কারণেই পৃথিবী নিত্যনতুন সাজে
তোমার শরীরে আম্র মুকুলের গন্ধ পাই
তুমি বৃষ্টিতে এলে বৃষ্টি হয়ে ওঠে ছন্দময়
শরতের বাতাসে তোমার চুলের কামিনী ঘ্রাণ
হেমন্তের মাঠেঘাটে তোমার বন্দনা।
শীতে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে পুরুষ
লেপের ওমে তোমার স্পর্শ খোঁজে।
তুমি যখন ভালোবাসতে ব্যাকুল হয়ে ওঠো
তখন বসন্ত আসে ফুল পাখি গেয়ে ওঠে।
সত্যিই দেবী
তোমাকে গভীর আলিঙ্গনে ভালোবাসা যায়
কষ্ট দেওয়া যায় না…

 

উচ্ছিষ্ট শুন্য ডাস্টবিন

উচ্ছিষ্ট শুন্য ডাস্টবিন
কাকদের করুন বিভৎস কা কা শব্দে
ভূতুড়ে শহর নগর জনপদ।
আকাশে দলবেঁধে শকুনের দল…
হাহাকার চাঁপাকান্না অজানা আতঙ্কে মানুষ।
ক্ষুধার তীব্র নেশায় মাতাল…
সম্পর্কের বাঁধন দেওয়া নেওয়ায় আসক্ত
প্রয়োজনের তাগিদে আপন হওয়ার ভান।
বিড়ির দামে বেঁচা-কেনা মানুষ জীবন!
একশ্রেণী মাসিকের রক্ত চেটেপুটে ফুলেফেঁপে কলাগাছ।
সুরা নারী দেহে বুদ হয়ে বিকৃত জীবন যাপন
ক্ষুধার যন্ত্রণায় পৃথিবীর কাঁপন চোখে পড়ে না।
মেয়েরা একমুঠো ভাতের আশায়
প্রকাশ্যে ইজ্জত বিক্রি করে
বেঁচে থাকার বৃথা চেষ্টা…
কঙ্কালসার দেহে নারী গর্ভবতী
অলিগলিতে কুকুরের মহড়া ভূমিষ্ট শিশুদের খেতে।
ভাগাড়ে মানুষ দেহের স্তুপ…
স্রষ্টা কাঠের চশমা পড়ে ঘুমিয়ে গেছে
নির্যাতিত নিপিড়ীত শোষিত মানুষের দৃঢ় বিশ্বাস।
উচ্ছিষ্ট শুন্য ডাস্টবিন
কাকদের করুন বিভৎস কা কা শব্দে
ভূতুড়ে শহর নগর জনপদ।

 

পরাধীনতার শেকল ছিঁড়ে

পরাধীনতার শেকল ছিঁড়ে, স্বাধীন হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে
জীবন বাজি রেখেছিল বীর বাঙালি।
মাটির টানে মায়ের ভাষা রাখতে ধরে দামাল ছেলে
ঝাঁপিয়ে পড়েছিল শত্রুর বিরুদ্ধে ।
বুকভরা সাহস দেশপ্রেমের নিগুঢ় টান
পাক বাহিনীর বুটের শব্দ
বোমা গোলাবারুদের বিকট আওয়াজ
বাঙালির বীর সন্তানদের প্রাণে ভয় ধরাতে পারেনি।
দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লক্ষ লক্ষ প্রাণের আত্মাহুতি
বীর সন্তানেরা এনেছে লাল সবুজের পতাকা
আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা।
নয় মাসে বিভীষিকাময় রাত, মা বোনের সম্ভ্রম হারানো
বিষ খাওয়া পশুর মতো গোঙানি বাতাস ভারী করেছে
সন্তান হারানো বাবা মায়ের চিৎকার, ভাই হারানো আর্তনাদ
গলেনি পাষণ্ড পাক হানাদার বাহিনীর হৃদয়…

 

ঘৃণিত পুরুষ পতিতা

যৌনতা চরিতার্থ করার জন্য লোভের ফাঁদ কেন
কেন বল প্রয়োগ করে ধর্ষক হওয়া।
চাইলে তো পতিতালয়ের বীরপুরুষ হতে পারতে
টাকার অভাব থাকলে হস্তবীদ হতে।
কুটকৌশলে যে নারীদেহে যন্ত্রণার বিষ ছড়ালে
দেহটাকে ভোগ্যপণ্য মনে করলে
সে তোমার পরিবারের কেউ হলে…
যৌন নেশায় মাতাল হয়ে অবলা নারীর প্রতি
যে ঘৃণ পৌরষত্ব দেখিয়ে বীর ভাবছ
তা এক জারজ মনোভাব ছাড়া আরকিছুই না।
ধর্ষিতা তোমার বোন মেয়ে বৌ হলে
কতটা সহ্য করতে পারতে,ভেবেছ কি…?
ঘৃণিত পুরুষ পতিতা, তুমি পুরুষ জাতির কলংক।
পুরুষ সে
যে বোনের সম্ভ্রম,বউয়ের ইজ্জত,মা’য়ের সম্মান
বিপদ আপদে জীবন বাজি রাখে।

 

দেশপ্রেমের আদর মেখে

শিশুমনে দেশপ্রেম বীজ
যদি পারো বুনতে
লোভ লালসা আর ভয়ে
পারবেনা ভুলতে।
স্বাধীন দেশের পতাকা
শক্ত হাতে ধরো
দেশপ্রেমের আদর মেখে
জীবনটা গড়ো।

 

মনুষ্যত্বহীন মানুষের বসবাস

আমি আর ফিরবো না ভালোবাসার ওই পথে
যে পথে ভালোবাসা ছাড়া কিছুই নেই
ভালোবাসা এখন বাজারের পণ্য।
নিবিড় যত্নে দীর্ঘদিনের সাজানো প্রেম বাগান
খেয়েছে নষ্ট করেছে স্বার্থপর ছাগল
প্রেম এখন যৌনতা চরিতার্থ করার কৌশল।
এই সময়ে আবেগ স্পর্শে বিবেকবান মানুষরা
অনেকটা পচে যাওয়া ডিমের মতন
এখন গর্বের সাথে মিথ্যার চর্চা হয়
সত্য বলতে যতো ভয়…
এ পৃথিবী থেকে প্রায় বিলুপ্ত মানুষ
মানুষের আদলে মনুষ্যত্বহীন মানুষের বসবাস।
এখানে সতিত্ব আর সৌন্দর্য চড়া দামে বিক্রি হয়
আঁধারের বুকে কাঁপন তুলে পৈশাচিক যৌন হাট বসে
নারী ইচ্ছায় অনিচ্ছায় সে হাটে রুপের পসরা সাজায়।
হাড়ভাঙা ব্যথার তীব্র যন্ত্রনা,বিষ খাওয়া পশুর গোঙানি
নারীর নগ্নদেহে ফুটে উঠলেই উল্লাসে মেতে ওঠে
কণ্ডোম ফেটে জন্ম নেওয়া অবৈধ পুরুষ
চোখ ফেটে বের হওয়া অশ্রুতে তৃষ্ণা মেটায়।
শাসক স্বৈরশাসক হয়ে ওঠে মসনদ প্রেমে মজে
ক্ষমতার অপব্যবহার করে আপন সুখ খোঁজে।
রাজনৈতিক নেতা খেলা করে জনগণের আবেগ নিয়ে
নির্বোধ আম জনতা বান্দর নাচে কথার ফাঁদে
ভোট শেষে নীরবে নিভৃতে কাঁদে।
দেশপ্রেম উগলে ওঠে গল্প আড্ডা টকশোতে
সময় কাটে বিদেশি প্রভুর চামচিতে
বিশ্বে পরিচয় হয় পা চাটা জাতিতে।
টাকাময় হয়ে ওঠা পৃথিবীর মানুষের কাছে
ভ্রাতৃত্ব বন্ধন সম্পর্ক প্রেম ভালোবাসা মূল্যহীন
টাকায় আসক্ত জগতবাসী…
টাকা আছে সম্পর্ক আছে
টাকা আছে সম্মান আছে
টাকাতেই প্রেম ভালোবাসা
টাকাহীন রাস্তার অবহেলিত খড়কুটো…
জ্ঞানপাপী অনুর্বর মস্তিষ্কে হিংসা বিদ্বেষ করে চাষ
আমজনতা ফল ভোগ করে বারোমাস।
ধর্ম এখন লিভাস আর কথাতে
অন্তরে না আছে শুধু মাথাতে।
একশ্রেণী ধর্ম পুঁজি করে ক্ষমতা চায়
বয়ানে মুখেমুখে পরকালের ভয়।
মানুষ লোভ লালসায় হিংস্র দানব
ভুলে যায় সে ক্ষণস্থায়ী মানব।
আমি আর ফিরবো না ভালোবাসার ওই পথে
যে পথে ভালোবাসা ছাড়া কিছুই নেই
ভালোবাসা এখন বাজারের পণ্য।